দুধ খেয়ে অসুস্থ ৩৪ শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ভর্তি

  • ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মিড ডে মিলের খাবারে রংপুর ডেইরি ফুড এন্ড প্রাইভেট লিমিটেড এর সরবরাহ করা আরডি ইউএইচটি মিল্ক নামে প্যাকেটজাত দুধ খাওয়ার পর পেটে পীড়া ও বমি নিয়ে ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪ জন কোমলমতী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথমে এ ঘটনা ঘটে। ওই বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরপরে মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং তুলশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। 

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নিশাত রায় জানান, বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৩৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেকেই বমি করেছেন, অনেকের পেটের পীড়া। কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা তাদের সেবা দিচ্ছেন। 

মধুপুর ১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির তানিয়া আক্তার বলেন, মিড ডে মিলের দুধ খাওয়ার পর সবার পেটের ব্যথা শুরু হয়। অনেকেই স্কুলেই বমি করেছে। প্যাকেটজাত করা দুধ তিতা এবং নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমরা স্যার ও ম্যামকে বললে তারা বলে খেয়ে নাও, কিছু হবে না। 

মধুপুর ১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শামীম হাসান জানান, পেট খুব ব্যথা করতেছে, বমি আসতেছে, কিন্ত বমি করতে পারছি না। দুধ খাওয়ার পর থেকেই পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে। 

মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মনিকা দেবনাথের বাবা মানিক দেবনাথ জানান, মেয়েটার পেটে ব্যথা শুরু হলে বাড়ীতে নিয়ে যাই। পরে না কমায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। নষ্ট দুধ খেয়ে বাচ্চাগুলো খুব কষ্ট পাচ্ছে। 

ক্ষুদ্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, খাবার ভালো আছে কিনা, তা দেখে বাচ্চাদের খেতে দেয়নি শিক্ষকরা। নষ্ট দুধ কিভাবে বাচ্চাদের খেতে বলে। শিক্ষকদের উদাসীনতার কারণে বাচ্চারা অসুস্থ। কারো কিছু হলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারীও দেন অভিভাবকরা। 

মধুপুর (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহিল সাফি জানান, আমি ছুটিতে ছিলাম, দিনাজপুর যাচ্ছিলাম। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসেছি। ফেরদৌসী বেগম নামে এক সহকারী শিক্ষক দায়িত্বে ছিলেন। দুধগুলো প্যাকেটের ভিতর থাকায় বুঝে উঠতে পারেননি। 

খবর শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস, বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায়। 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় জানান, বাচ্চাগুলো ভালো আছে। আমরা দেখছি কোন খাবারে সমস্যা ছিল, আসলে কি হয়েছিল। সবাই হাসপাতালেই আছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস বলেন, মিড ডে মিলের অবশিষ্ট খাবারগুলো জব্দ করতে বলা হয়েছে। আমরা সেগুলো পরীক্ষা-নীরিক্ষার ব্যবস্থা করবো।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিদ্যালয়ের প্যাকেটজাত দুধ সরবরাহ করে রংপুর ডেইরি ফুড" এন্ড প্রাইভেট লিমিটেড। আরডি ইউএইচটি মিল্ক নামে প্যাকেটজাত দুধের সবরকারী হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আবু রিয়াল। তিনি জানান, আমরা দুধটা গতকাল দিয়েছি, আজ বাচ্চা খাবে। বাকি বিদ্যালয়গুলোতে সমস্যা হয়নি। এই তিনটিতে কেন হলো বুঝতে পারছি না।

পিএস