রাজশাহী: মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা একটি মামলার আসামি খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জন। তাদের মধ্যে রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান আসাদ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারসহ চার আসামি গ্রেপ্তার আছেন।
খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, বোয়ালিয়া থানার সাবেক ওসি হুমায়ুন কবীরসহ এ মামলার ৩৪ আসামি এখনো গ্রেপ্তার হননি। এই ৩৪ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি সংবাদপত্রে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। আগামী ২৭ অক্টোবর এ মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহী মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে আন্দোলনকারী রায়হান আলী ও আনজুম সাকিব নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ার, শাহ মখদুম কলেজ, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় বোয়ালিয়া মডেল থানায় পৃথক হত্যা মামলা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত শুরু করে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩০ জুলাই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১৮ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার ৩৮ আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন- মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক। বাকি ৩৪ আসামি পলাতক।
পলাতক আসামিরা হলেন- রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, আরএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার, সাবেক ওসি হুমায়ুন কবির, ছাত্রলীগ নেতা রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, যুবলীগ নেতা বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, যুবলীগ নেতা তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।
পিএস