জাজিরায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ঘুষ নেওয়া সেই এএসআই ক্লোজড

  • শরীয়তপুর প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে ২ হাজার টাকা দাবি করে দরাদরির পর ৭০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠা সেই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাজিম আহম্মেদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জাজিরা থানা থেকে প্রত্যাহার করে শরীয়তপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস) জাকারিয়া রহমান।

শুক্রবার ‘‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে ২ হাজার টাকা দাবি, পরে ৭০০ টাকা নিলেন এএসআই’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে ‘সোনালী নিউজ’। প্রতিবেদনে জাজিরা থানার এএসআই নাজিমের বিরুদ্ধে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য টাকা দাবির অভিযোগ এবং এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর করা একটি অডিও রেকর্ডের কথা তুলে ধরা হয়।

[276440]

সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে এএসআই নাজিমকে জাজিরা থানা থেকে প্রত্যাহার করে শরীয়তপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এর আগে জাজিরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে এএসআই নাজিমের বিরুদ্ধে ২ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ করেন উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের রবিন মাদবর (২৩)। পরে টাকার পরিমাণ কমানোর জন্য দরাদরির একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অডিওতে রবিনকে টাকার পরিমাণ কমানোর জন্য অনুরোধ করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে এএসআই নাজিমকে ১ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। পরে কথোপকথনের একপর্যায়ে ৭০০ টাকা দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। রবিনের দাবি, দীর্ঘ সময় অনুরোধ ও দরাদরির পর শেষ পর্যন্ত তিনি ৭০০ টাকা দেন।

ভুক্তভোগী রবিন জানান, তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া এএসআই নাজিম তাকে ফোন করে থানায় যেতে বলেন। পরে থানায় গিয়ে কথোপকথনের সময় নিজের মোবাইল ফোনে অডিও রেকর্ড করেন তিনি।

ছড়িয়ে পড়া অডিওতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথোপকথনের পাশাপাশি এএসআই নাজিমের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।

তবে টাকা দাবি ও নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এএসআই নাজিম। তিনি বলেন, রবিনের বাবার ভোটার আইডি কার্ড ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজপত্র ছিল না। সেগুলো দিয়ে যেতে বলেছিলেন। এছাড়াও টাকা চাওয়া বা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এমন কিছু হয়নি।’

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস্) জাকারিয়া রহমান বলেন, এএসআই নাজিম আহম্মেদকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসআই