সেনবাগে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • নোয়াখালী প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগে মো. হানিফ প্রকাশ সুমন (৪০) নামের এক মুদি ও মনিহারি ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার ৮ নম্বর বিজবাগ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাসু ব্যাপারী বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুমন ওই বাড়ির মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ফকিরহাট বাজারে হক ট্রেডার্স নামের একটি মুদি ও মনিহারি দোকান পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহবুবুল আলম শিমুল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে সুমন দোকান বন্ধ রেখে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি ফোনে দোকানের কর্মচারী জাহিদুল ইসলামকে খাবার নিয়ে যেতে বলতেন। গত দুই-তিন দিন তাঁর ফোন না পেয়ে শনিবার বিকেলে কর্মচারী বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে সুমনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে মরদেহ থানায় নেওয়া হয় এবং রোববার ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ ও আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে সুমন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর প্রথম স্ত্রী সাপের কামড়ে মারা যান। প্রথম সংসারে তাঁর একটি ছেলে রয়েছে। পরে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং ওই সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পারিবারিক বিরোধের কারণে স্ত্রী গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হযরত আলী মিলন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এসএইচ