খুলনা: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে রূপসা পাড়ের শিল্পনগরী খুলনাবাসী এখন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ভাসছে। আগামীকাল ৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় ‘নতুন কুঁড়ি’ স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করবেন তিনি।
প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার পেছনে অপচয় না করে, দিনরাত এক করে পুরো খুলনাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে চলছে দফায় দফায় মিটিং, বর্ধিত সভা ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা।
পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলার অনন্য দৃষ্টান্ত
অপচয় আর পরিবেশদূষণ নয়, বরং শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতাই হবে নেতা বরণের মূল হাতিয়ার। পুরো পথজুড়ে শৃঙ্খলার এমন এক অনুপম দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে প্রস্তুত পুরো খুলনা। রাজনীতিতে পরিচ্ছন্নতার এই নতুন বার্তা ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেওয়ার সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুদীর্ঘ সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে অবস্থান নেবেন খুলনাঞ্চলের লাখো নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস হয়ে জেলা স্টেডিয়ামমুখী পুরো পথজুড়ে খুলনাবাসীর যে পুষ্পবৃষ্টি ও অভিনন্দনের জোয়ার বইবে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তোরণ-ব্যানার দিয়ে শহর না ঢেকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব খুলনা গড়ার যে বার্তা নেতাকর্মীরা দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি গত রোববার রাতে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জানান, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে আগামীকাল খুলনায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, খেলাধুলাকে কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি শক্তিশালী জাতি গঠনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের ও তাদের পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, এই আসরে অংশগ্রহণের জন্য দেশের প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ-তরুণী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন (প্রথম আসরে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার)। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে ৪,৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এই বিশাল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণাঙ্গ সফরসূচি (৫ নভেম্বর) সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার মোংলা বন্দর এবং খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। তাঁর সময়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
সকাল সোয়া ৯ টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের উদ্দেশে রওনা।
সকাল ১০ টায় মোংলা বন্দরে পৌঁছানো এবং ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ ও ‘চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন’ (CRCC)-এর মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগদান।
সকাল সাড়ে ১০ টায় মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২টি কনটেইনার জেটি নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।
বেলা সোয়া ১১ টায় মোংলা বন্দরের কর্মসূচি শেষে সড়কপথে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খান জাহান আলী (র.)- মাজার-এর উদ্দেশে যাত্রা।
দুপুর ০১ টায় হযরত খান জাহান আলী (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে মাজার জিয়ারত।
দুপুর সোয়া ০১ টায় মাজার শরীফ থেকে সড়কপথে খুলনা শহরের উদ্দেশে রওনা।
দুপুর সোয়া ০২ টায় খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছানো এবং সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম গ্রহণ।
বিকেল ০৩ টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২) এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ।
বিকেল সাড়ে ০৪ টায় খুলনার হেলিপ্যাডে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা।
বিকেল সোয়া ০৫ টায় ঢাকায় প্রত্যাবর্তন।
পিএস