ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক এবং সরকারি বাসভবনে রাত্রিযাপনের অভিযোগে অবশেষে চাকরি হারাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তা মো. গোলাম সাকলায়েন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক এই অতিরিক্ত উপকমিশনারকে (এডিসি) ‘বাধ্যতামূলক অবসরে’ পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
২০২১ সালের জুনে ঢাকা বোট ক্লাবে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন পরীমণি। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান গোলাম সাকলায়েন। তদন্তের সূত্র ধরেই পরীমণির সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়, যা পরবর্তীতে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত টানা ১ মাস সাকলায়েন নিয়মিত পরীমণির বাসায় যাতায়াত করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) সেখানে অবস্থান করেছেন। ২০২১ সালের ১ আগস্ট সাকলায়েনের স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে পরীমণি তার রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টারে যান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেখানে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করার পর ২ আগস্ট গভীর রাতে (দেড়টায়) তিনি বিদায় নেন। তাদের মধ্যকার মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারের চ্যাট বিশ্লেষণ করে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই সম্পর্ক কোনো পেশাগত প্রয়োজনে ছিল না; বরং তা ছিল একটি অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক।
অভিযোগ ওঠার পর পরই সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি করা হয়েছিল এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মতামত চেয়ে চিঠি পাঠায়। সম্প্রতি পিএসসি এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে তাদের মতামত দেয়, যার ওপর ভিত্তি করেই এখন চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টেলিফোনে বা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, পুলিশ বাহিনীর শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এম