ঢাকা: রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে বগুড়ার এক প্রধান শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মো. রাকিব হোসেন (২৪) নামের এক আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবী জানান, মামলার পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা পর্যন্ত আদালত এই আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকায় তিনি খুব দ্রুত কারামুক্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মামলায় প্রথমে যে মোটরসাইকেলটি আটক করা হয়েছিল, সেটি আসামি রাকিব হোসেনের। তবে প্রকৃতপক্ষে ছিনতাইয়ের সময় ওই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয়নি; বরং ঘটনার সময় সেটি গ্যারেজে ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজেও এর সত্যতা রয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশ ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত আসল মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। শুধুমাত্র হয়রানি করার জন্য এই আসামিকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছিল।
জামিন আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটি তার নয় এবং তার কাছ থেকে কোনো চোরাই মালও উদ্ধার করা হয়নি। শুধুমাত্র ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ কারণে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন আইনজীবী।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নিহত রনজিলা পারভীন (৫৬) বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। গত ২৯ আগস্ট চোখের চিকিৎসক দেখানোর উদ্দেশ্যে স্বামী মো. আবদুল মতিনের সঙ্গে ভোর আনুমানিক ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটসংলগ্ন রাস্তা দিয়ে অটোরিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতের ব্যাগ ধরে সজোরে টান দেয়। ছিনতাইকারীর টানে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে পাকা রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. আব্দুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
পিএস