ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে টি+ ৩ তে করার নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যা বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব বলা হয়।
দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেন টি প্লাস থ্রি ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হবে। এতদিন এই ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন টি প্লাস নাইন ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হতো।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শেয়ার কেনার চতুর্থদিনে বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে ওই শেয়ার জমা হবে। একইভাবে কেউ শেয়ার বিক্রি করলে চতুর্থ দিনে তার টাকা পাবেন। এতদিন দশম দিনে শেয়ার বা টাকা পাওয়া যেতো।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরপর দুইবছর নগদ লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে এজিএম করতে ব্যর্থ হলে, ৬ মাস উৎপাদন বন্ধ থাকলে, পরপর ২ বছর পরিচালন লোকসান ও ঋণাত্মক পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে সংরক্ষিত আয় বেশি ঋণাত্মক হওয়া কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে। এছাড়া সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গের দায়ে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হবে।
‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর, স্থানান্তর ও প্লেজের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সংস্থাটি। ৪৫ দিনের মধ্যে পুনর্গঠ করা হবে কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ। পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ চার বছরের মধ্যে কোম্পানির সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলে স্টক এক্সচেঞ্জ সেই কোম্পানিকে তালিকাচ্যুতি করবে।
যেসব কোম্পানি দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে জেড ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সেসব কোম্পানি ৪৫ কর্মদিবসের মধ্যে চলমান বোর্ড পুনর্গঠন করতে ব্যর্থ হলে বর্তমান পরিচালক ও উদ্যোক্তারা অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি, পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী ও পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট কোনো কোম্পানির পরিচালক হিসেবে থাকতে পারবেন না।
কমিশন এক্ষেত্রে বিশেষ নিরীক্ষক ও কমিশন কর্তৃক পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে পর্ষদ পুনর্গঠন করে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করবে। পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ চার বছরের মধ্যে কোম্পানির সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলে স্টক এক্সচেঞ্জ সেই কোম্পানিকে তালিকাচ্যুতি করাসহ অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জেড ক্যাটাগরিতে লেনদেনকৃত কোম্পানিগুলোকে ছয় মাসের মধ্যে এজিএম করতে হবে। সব ধরনের শেয়ারহোল্ডার মিটিং (এজিএম/ইজিএম) ই-ভোটিং বা অনলাইনের সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ডিজিটাল প্লাটফর্মে অথবা হাইব্রিড সিস্টেমে করতে হবে।
সোনালীনিউজ/এলএ/এমএএইচ