‘আইপিও অর্থ ব্যবহারে প্রকৃত উপযোগিতা ও লাভজনকতা যাচাই জরুরি’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঢাকা: পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত উপযোগিতা এবং প্রকল্পের লাভজনকতা যাচাই করা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) চেয়ারম্যান ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী।
 
তিনি মনে করেন, আইপিও’র অর্থ যে উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছে, তা আদতে কোম্পানি বা প্রজেক্টের জন্য কতটা কার্যকর হচ্ছে সেটি গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে ‘ডিসকাশন মিটিং অন আইপিও প্রসিডস ইউটিলাইজেশন ফর লোন রিপেমেন্ট অর ইনভেস্টমেন্টস অব ইস্যুয়ার’ শীর্ষক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বিএসইসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, কমিশনার মো. আলী আকবর, কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন, সিএফএ এবং পুঁজিবাজার অংশীজন প্রতিষ্ঠানসমূহের শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ইস্যুয়ার কোম্পানীর ঋণ পরিশোধ ও বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, “পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন এবং প্রাণবন্ত ও গতিশীল পুঁজিবাজার গড়তে কমিশন কাজ করছে। পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করতে বিএসইসি প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল্যবান মতামত ও প্রস্তাবনার জন্য ধন্যবাদ। অংশীজনদের মতামত ও প্রস্তাবনা বিএসইসি মূল্যায়ন করে দেখবে। তবে বিএসইসির অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা।”

তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেন এবং জানান, পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিসমূহকে গভর্নেন্স ফ্রেমওয়ার্কে আনা ও ভালো মৌলভিত্তি কোম্পানি তালিকাভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে। সভায় নতুন পাবলিক ইস্যু রুলসের অধীনে আইপিও আবেদন, লিস্টিং এবং আইপিও অর্থের ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

অংশীজনদের পক্ষ থেকে আইপিও’র মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধে নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পুনঃতফসিলকৃত ঋণ যা নিয়মিত রয়েছে সেটিকেও আইপিও অর্থ দিয়ে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। এছাড়াও বন্ড মার্কেট উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো আইপিও অর্থ ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধের সুযোগ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, আইপিও অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রকৃত উপযোগিতা ও লাভজনকতা যাচাই করা জরুরি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে শক্তিশালী পুঁজিবাজার প্রয়োজন। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন বলেন, উৎপাদনশীল ঋণ আইপিও অর্থ দিয়ে পরিশোধ করে ক্যাপিটাল রিস্ট্রাকচারিংয়ের সুযোগ থাকা উচিত।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের প্রেসিডেন্ট রিয়াদ মাহমুদ বলেন, বৈশ্বিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিগুলোকেও আইপিও অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির জন্য উপকারী হলে যাচাইবাছাই করে আইপিও অর্থ দিয়ে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া উচিত।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকা’র প্রেসিডেন্ট কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, স্বল্পমেয়াদি ডিপোজিট দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিরুৎসাহিত করে পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়ন বাড়াতে হবে।

সভায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ, বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/পিএস