টানা চার সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতির পর অবশেষে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি না হওয়া এবং তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাজারে নতুন চাপ তৈরি করেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ কমে ৪,৬৮৩ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারস ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৬৯৯ ডলারে। চলতি সপ্তাহে মোট হিসাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কিছুটা থমকে গেছে। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, বাজার যখন শক্তিশালীভাবে ওপরে উঠতে পারে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়—বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা সেরকমই।
এদিকে, জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সপ্তাহজুড়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। এর ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে প্রভাবিত করতে পারে।
যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের সুদযুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়। ফলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা কিছুটা কমে যায়।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪.৮৮ ডলারে নেমেছে, প্লাটিনাম কমেছে ১.৪ শতাংশ। তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪৭৫ ডলারে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
বাংলাদেশে সর্বশেষ নির্ধারিত দামে—
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৪৬,৯২৭ টাকা
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৩৫,৬৭১ টাকা
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,০২,০২০ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,৬৪,৫২১ টাকা
বিশ্ববাজারে দামের পতন হলেও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম এখনো তুলনামূলক উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা—সব মিলিয়ে আগামী দিনে দামে আরও ওঠানামা হতে পারে।
এম