ফেসবুক পোস্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহিষ্কার এনসিপি নেতা

  • নিউজ ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২৬, ০৯:২৫ এএম

দলীয় অবস্থান ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার গভীর রাতে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ৩ মার্চ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।

বহিষ্কারাদেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, সতর্ক করার পরও আমিরুল দলীয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে বিষয়টি পর্যালোচনা করে তাকে ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব পদসহ সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তবে বহিষ্কারের কয়েক ঘণ্টা আগেই নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন সর্দার আমিরুল ইসলাম। তিনি লিখেছিলেন, এনসিপির সঙ্গে তার পথচলা আর সম্ভব হচ্ছে না।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপন্থী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপির যাত্রা তাকে আশাবাদী করেছিল। কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে ডানপন্থি জোটে সম্পৃক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত তাকে হতাশ করেছে। যদিও প্রথমদিকে এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন, পরে দলের ভেতরে ডানপন্থার প্রভাব বাড়তে থাকায় তিনি ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

আমিরুল আরও জানান, গত দুই মাস আগে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে দলীয় শীর্ষ নেতারা তখন সেটি গ্রহণ না করে তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

দলের বর্তমান গতিপথে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মতাদর্শিক দূরত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে দ্বিধার কারণেই শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই নেতার অতীত পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সর্দার আমিরুল ইসলাম একসময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে নবগঠিত এনসিপিতে যোগ দেন তিনি।

এদিকে সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময় পার করছেন আমিরুল। চলতি মাসের ১৩ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খুন হন তার ছোট ভাই শাহরিয়ার আলম সাম্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

এম