বৈদেশিক ঋণের শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ফাইল ছবি

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং ব্যবসা করার খরচ কমাতে বড় ধরনের সুখবর দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে বাংলাদেশে থাকা শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কোনো রকম আগাম অনুমতি ছাড়াই তাদের মূল (প্যারেন্ট) কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে সরাসরি বিদেশি ঋণ নিতে পারবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় বিশেষায়িত অঞ্চলের ভেতরের ও বাইরের উৎপাদন ও সেবা খাতের কোম্পানিগুলোর জন্য এই নিয়ম সহজ করা হয়। এর ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), বেসরকারি ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কের মতো বিশেষায়িত অঞ্চলের পাশাপাশি এর বাইরে অবস্থিত উৎপাদন ও সেবা খাতের শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত শর্তপূরণ সাপেক্ষে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধার আওতায় আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরে থাকা উৎপাদন ও সেবা খাতের বিদেশি কোম্পানিগুলো তাদের দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য কোনো রকম আগাম অনুমতি ছাড়াই সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে। এছাড়া চাইলে কাঁচামাল কেনা বা ব্যবসার প্রয়োজনে বছরে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ খরচে সুদযুক্ত ঋণও নেওয়া যাবে। এই ঋণ মেয়াদ শেষে একবারে শোধ করতে হবে এবং প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত সময় বাড়িয়ে নেওয়া যাবে। অন্যদিকে, ১ থেকে ৫ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি কেনা বা নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত এবং ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। আর ৫ বছরের বেশি মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রেও সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ।

সার্কুলার অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানিগুলো চাইলে তাদের এই বকেয়া ঋণ ও সুদকে সাধারণ শেয়ারে (বিনিয়োগে) রূপান্তর করে নিতে পারবে। তবে সুদযুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ কোনোভাবেই মোট পুঁজির ৮০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না, যদিও সুদমুক্ত ঋণের জন্য এমন কোনো নিয়ম নেই। এই পুরো লেনদেনটি অনুমোদিত ব্যাংকের ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে করতে হবে এবং ঋণ নেওয়ার জন্য কোম্পানির আগের কোনো ঋণখেলাপির রেকর্ড থাকা চলবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলো এখন খুব কম খরচে টাকা ধার করার সুযোগ পাবে। বিশ্ববাজারে যখন ঋণের সুদের হার অনেক বেশি, তখন মাত্র ৩ শতাংশ খরচে মূল কোম্পানি থেকে ঋণ পাওয়ার এই সুযোগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন অনেক বাড়িয়ে দেবে।

এসএইচ