উন্নয়নশীল দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বিশ্বব্যাংক

  • আবদুল হাকিম, ব্যাংকক-থাইল্যান্ড থেকে | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কার্যকর ব্যবহারকে গুরুত্ব দেবে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। আগামী ১২ থেকে ১৬ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং উদীয়মান বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে সংস্থাটি তার ইতিহাসের যেকোনো বছরের তুলনায় বেশি বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ ও বিনিয়োগে সহায়তা করেছে। একই সময়ে রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টিও দিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে।

এবারের বার্ষিক সভার মূল প্রতিপাদ্য ‘বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি’। এর আওতায় উন্নয়ন অর্থায়নে বেসরকারি পুঁজির ব্যবহার, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।

বিনিয়োগে বেসরকারি পুঁজির গুরুত্ব: উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়নের ঘাটতি পূরণে বেসরকারি বিনিয়োগকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেবে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়ন ও বিশেষজ্ঞ সহায়তার পাশাপাশি কীভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উদীয়মান বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় থাকবে।

কর্মসংস্থানে এআইয়ের ব্যবহার: ১২ অক্টোবর ‘ছোট পরিসরে এআই: আরও বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান’ শীর্ষক অধিবেশনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা উদ্ভাবক ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এতে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী এআই প্রযুক্তি কীভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তা তুলে ধরা হবে। প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পরিবর্তে বাস্তব প্রয়োগ ও কার্যকর ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায় অর্থায়ন: ১৩ অক্টোবর ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের অর্থায়ন নিয়ে আরেকটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ডিজিটাল তথ্য ব্যবহার করে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বৃহৎ পরিসরে অর্থায়নের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আর্থিক খাতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন অজয় বাঙ্গা। এসব প্রতিষ্ঠানকে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্বব্যাংক।

এ ছাড়া ১৪ অক্টোবর উদীয়মান বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়নের চাহিদা পূরণে বিনিয়োগের বাইরে থাকা বেসরকারি পুঁজি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে।

বার্ষিক সভার শেষ দিনে ১৬ অক্টোবর সমাপনী অধিবেশনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার ও করণীয় তুলে ধরবেন অজয় বাঙ্গা। পরে ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত হবে গ্লোবাল এআই অ্যান্ড ডিজিটাল সামিট। সেখানে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এম