ঢাকা: মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজের ঋণাত্মক ইক্যুইটির বিও হিসাব নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব হিসাবে বকেয়া ঋণ, শেয়ারের বাজারমূল্য ও প্রভিশনের পর্যাপ্ততা যাচাইয়ের পাশাপাশি ঋণাত্মক ইক্যুইটি তৈরি ও বজায় থাকার পেছনে পরিচালনা পর্ষদ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে।
বিএসইসি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আদেশ জারির ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. ইকবাল হোসেন, সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম ও অমিত অধিকারী।
তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির সব ঋণাত্মক ইক্যুইটি হিসাবের বিওভিত্তিক তালিকা সংগ্রহ করে যাচাই করা হবে। প্রতিটি হিসাব কবে ঋণাত্মক হয়েছে, গ্রাহকের বকেয়া ঋণ কত, বিপরীতে থাকা শেয়ারের বাজারমূল্য এবং কী পরিমাণ প্রভিশন রাখা হয়েছে—এসব তথ্য নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ডিএসই, সিএসই এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে এসব হিসাবে কোনো শেয়ার কেনার আদেশ দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধান করবে কমিটি। সংশ্লিষ্ট, মনোনীত বা পরিবারের সদস্যদের হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার ও অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করা হবে। পাশাপাশি বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি দুই মাস অন্তর বিবরণী জমা দেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা করা হবে।
ঋণাত্মক ইক্যুইটি হিসাবগুলোর প্রকৃত সুবিধাভোগী এবং এসব হিসাবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সহযোগী ব্যক্তি, মার্চেন্ট ব্যাংকার, ইস্যুয়ার বা মধ্যস্থতাকারীদের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এসব হিসাবের বিপরীতে পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা ফি আদায় বা আদায়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজের পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস প্রস্তাব বিএসইসির নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা যাচাই করা হবে। মার্জিন চুক্তি, গ্রাহকের কেওয়াইসি, মার্জিন কল, ঋণসীমা লঙ্ঘন, বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রি, পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার পর্যবেক্ষণও পর্যালোচনা করবে তদন্ত কমিটি।
এএইচ/পিএস