লম্বা ছুটিতে যাচ্ছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
ফাইল ছবি

তপ্ত দুপুরের কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলো দীর্ঘ অবকাশ। আসন্ন ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে দেশের সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুরু হতে যাচ্ছে টানা দুই থেকে তিন সপ্তাহের ছুটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী ২৪ মে থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে।

তবে ক্যালেন্ডারের হিসেবে ২৪ মে ছুটি শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা মূলত ২১ মে শেষ কার্যদিবসের পরই ছুটির আমেজে চলে যাচ্ছে। কারণ ২২ ও ২৩ মে যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২১ মে বিকেলেই তালা পড়ছে স্কুল-কলেজের শ্রেণিকক্ষে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক স্কুল এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলবে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত। এরপর ৫ ও ৬ জুন সাপ্তাহিক বন্ধ কাটিয়ে ৭ জুন থেকে আবারও নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে। সব মিলিয়ে সাধারণ ধারার শিক্ষার্থীরা ১৬ দিনের এক দীর্ঘ বিরতি পাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন তীব্র গরম থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রেহাই পাবে, অন্যদিকে পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পর্যাপ্ত সময়ও মিলবে।

সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় মাদ্রাসাগুলোতে ছুটির মেয়াদ কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে। আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদ্রাসাগুলোতে ২৪ মে ছুটি শুরু হয়ে চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। মাঝখানে সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন থেকে পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে। এর ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা টানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় অবকাশ যাপনের সুযোগ পাচ্ছে।

জুন মাসের এই দীর্ঘ বিরতির পর জুলাই ও আগস্ট মাসেও শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু সরকারি ও ধর্মীয় ছুটি রয়েছে। আষাঢ়ী পূর্ণিমা, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, আখেরি চাহার সোম্বা এবং ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন মেয়াদে বন্ধ থাকবে। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসেও জন্মাষ্টমী ও ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ক্যালেন্ডারে ছুটির তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

প্রতি বছরই গ্রীষ্মের তাপদাহ ও প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপঞ্জিতে এই অবকাশ রাখা হয়। তবে এবার মে মাসের শেষ দিকে গরমের তীব্রতা বাড়তে থাকায় এই ছুটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মে মাসের শেষার্ধে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে লম্বা ছুটি শিক্ষার্থীদের জন্য একই সাথে পড়াশোনার ক্লান্তি দূর করা এবং সুস্থ থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে।

স্কুল-কলেজগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে। প্রিয়জনদের সাথে ঈদ পালন এবং তীব্র গরম থেকে বাঁচতে গ্রামের বাড়ি ফেরার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে অনেক পরিবারে। সব মিলিয়ে এক পাক্ষিকের জন্য শুনশান নিরবতায় ডুবতে যাচ্ছে দেশের শিক্ষা চত্বরগুলো।

এসএইচ