নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড দেখিয়ে আন্দোলনে চুয়েট শিক্ষার্থীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে তাঁর উদ্দেশে লাল কার্ড দেখিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি চলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন সড়ক থেকে লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে আসা তরুণরা মিছিলে যোগ দিয়ে ক্যাম্পাসের নানা সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে মিছিলটি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে নবনিযুক্ত ভিসির বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম শিক্ষার্থীবান্ধব নানা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে চুয়েটকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু হুট করে তাঁকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ওপর নবনিযুক্ত উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনাসহ তাঁর নানা মন্তব্য শিক্ষার্থীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

নতুন উপাচার্যের আগমনের খবরে শুক্রবার রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সকালে তাঁরা ক্যাম্পাসের দেয়ালে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যঙ্গাত্মক গ্রাফিতি আঁকেন। আগের দিন রাতেই নারী শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শেষে উপাচার্যের কার্যালয় ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। এরপর থেকেই শাটডাউন, গণস্বাক্ষর ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ভার্চুয়াল সভা থেকে জরুরি সেবা ছাড়া সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি। পরবর্তীতে অফিসার্স ও কর্মচারী সমিতিও এতে সংহতি জানায়।

উপাচার্য পদে ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এসএইচ