যে বাবাকে একসময় মানুষের কাছে হাত পেতে ছেলের চিকিৎসালয় ও পড়াশোনার খরচ জোগাতে হয়েছিল, আজ জীবনের সায়াহ্নে এসে সেই বাবার চোখেই জল। শৈশবের সেই সংগ্রামের দিনগুলো পেছনে ফেলে আজ ছেলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, সমাজে নাম ও বিত্ত দুটোই অর্জন করেছেন; কিন্তু খোঁজ রাখেন না অসুস্থ ও সহায়হীন বাবার।
হাফেজ তাশরীফের বাবার অভিযোগ, ছোটবেলায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক রোগ থেকে শুরু করে তিল তিল করে অনেক কষ্টে তাকে হাফেজ ও মাওলানা বানিয়েছিলেন তিনি। নিজে ইমামতি করে সংসার চালাতে না পেরে মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চেয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছিলেন। কিন্তু আজ যখন তিনি নিজে অসুস্থ এবং অর্থাভাবে ধুঁকছেন, তখন সন্তানের কাছ থেকে মিলছে কেবল অবহেলা আর দূরত্ব।
বাবা জানান, চিকিৎসার জন্য ছেলের কাছে টাকা চাইলেও তা পাওয়া যায়নি, বরং জমি কেনার অজুহাত দেখানো হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমের সহায়তায় মানুষের সাহায্যে চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরা হয় না, এমনকি ব্যক্তিগত সহায়কের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইমামতির চাকরি ছাড়ানো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সহায়তা মেলেনি।
কোরবানির ঈদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, কোরবানি দেওয়ার পর বন্ধুবান্ধবদের মাংস দেওয়া হলেও নিজের জন্মদাতা বাবা পাননি এক টুকরো মাংসও। সন্তানের এত বিত্ত-বৈভব আর চারপাশের মানুষের ভিড়ের মাঝেও আজ তিনি বড় একা।
টাকার লোভে নয়, বার্ধক্যের এই সময়ে সন্তানের একটু খোঁজখবর ও ভালোবাসার আকুতি জানিয়ে এই বাবা বলেন, যখন কেউ ছিল না, তখন তিনি পাশে ছিলেন; অথচ আজ সন্তানের সব হয়ে যাওয়ার পরও তিনি নিজেই যেন পর হয়ে গেছেন।
এসএইচ