ঢাকা: সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। এমন পরিস্থিতে আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি জানান, যেসব এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দেওয়া হবে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
[268235]
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরইমধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় টিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্যাভি থেকে প্রায় ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা ধার নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা পরবর্তীতে ক্রয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, দ্রুত ও সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহসহ কয়েকটি জেলায় রোগটি বেশি ছড়িয়েছে। হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৯ শিশুর।
হামের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেরি না করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১৬ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন।
দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টিকাকেন্দ্রে শিশুদের হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এছাড়া, কয়েক বছর পরপর জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। দেশে সর্বশেষ জাতীয় ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে।
এসআই