যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বেড়েছে সোনার দাম। নতুন করে তীব্র হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।
সোমবার (২ মার্চ) স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,৩২৯.৩৯ ডলারে দাঁড়ায় (০২০১ জিএমটি সময় অনুযায়ী), যা চার সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেশনের শুরুতে একপর্যায়ে দাম ২ শতাংশ পর্যন্ত লাফিয়ে ওঠে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,৩৪২.৮০ ডলারে পৌঁছায়।
গতকাল রবিবার ইসরায়েল তেহরানে নতুন করে হামলা চালালে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। চলমান এই উত্তেজনা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, আগের উত্তেজনার তুলনায় এবার উভয় পক্ষেরই সংঘাত বাড়িয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেশি, যা দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি সোনার জন্য ইতিবাচক।
সোনাকে ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণে ঝুঁকেন। চলতি বছর ইতিমধ্যেই স্বর্ণের দাম একের পর এক রেকর্ড গড়েছে।
২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় আকারের ক্রয়, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) শক্তিশালী বিনিয়োগ প্রবাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতিতে সম্ভাব্য শিথিলতার প্রত্যাশা এসব কারণ বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী রেখেছে।
বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বর্ণের দামে আরো উত্থানের আভাস দিচ্ছে। জে পি মরগান ও ব্যাংক অব আমেরিকার মতে, স্বর্ণের দাম ৬,০০০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ স্তর ছুঁতে পারে।
জে পি মরগানের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দাম প্রতি আউন্স ৬,৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে স্বর্ণ কাজ করে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী। নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় স্বর্ণের দাম আরো নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারিতে উৎপাদক মূল্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে সামনের মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকার ভাতার আবেদন এবং নন-ফার্ম পে-রোলসসহ শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিকে নজর রাখবেন।
তবে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট সিলভার ১.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৯২.৭২ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ২,৩৪৩.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর প্যালাডিয়াম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৭৯৫.১১ ডলারে পৌঁছেছে। সূত্র : রয়টার্স
এম