লাগামহীন জ্বালানি তেলের দাম, বিপাকে ট্রাম্প

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২৬, ১০:৪২ এএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথে হাঁটছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি কৌশলগত জরুরি মজুত থেকেও তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিজেদের জরুরি মজুত খোলার বিকল্পও বিবেচনা করছে প্রশাসন। এর আগে সপ্তাহের শুরুতেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মার্কিন সম্মতিতেই ইরানি তেলবাহী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ধরে রাখতে সহায়তা করছে।

[267710]

সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে তেহরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে দাম আরও লাফিয়ে বাড়তে পারে।

তেলবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটসের প্রধান বন্দনা হারি জানান, আঞ্চলিক মানদণ্ড ওমান ও দুবাই ক্রুডের দাম ইতোমধ্যে ১৫০ ডলার ছাড়িয়েছে। তিনি বলেন, “ব্রেন্ট বা ডব্লিউটিআই না হলেও ২০০ ডলারের ধাক্কা এখন আর দূরের নয়। দাম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি কতদিন বন্ধ থাকবে তার ওপর।”

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্মে (২.৮ ঘনমিটার) ১৭১.৩৪ পেন্স বা ২.২৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

সূত্র: পলিটিকো, বিবিসি

এসআই