ট্রাম্পের নতুন ফাঁদ, যুদ্ধ বন্ধে `দিতে হচ্ছে‍‍` ৫ ট্রিলিয়ন ডলার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের যা না ক্ষতি হয়েছে, তার কোনো অংশে কম হয়নি উপসাগরীয় দেশগুলোর। যদিও কয়েকটি আরব দেশের অনুরোধে ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালায় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল। পরে সৌদি আরব তা অস্বীকার করলেও সংঘাতের কারণে ভুগতে হচ্ছে ইরানের প্রায় সব প্রতিবেশীকেই। 

এরই মধ্যে জানা গেল; আরব দেশগুলোকে নতুন করে ফাঁদে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি যুদ্ধ বন্ধ বা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ চেয়েছেন।

[267871]

বিবিসি অ্যারাবিকে এমনটাই জানিয়েছেন ওমানের সাংবাদিক সালেম আল-জুহুরি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় আরব মিত্রদের কাছে যুক্তরাষ্ট্র কথিতভাবে ট্রিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন। 

চ্যানেলটিতে কথা বলার সময় জুহুরি জানান, কিছু রিপোর্ট ও ‘ফাঁস হওয়া তথ্য’ থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ চেয়েছেন।

তিনি বলেন, এই কথিত দাবিগুলো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং বন্ধ করা—উভয় বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। 

জুহুরি বলেন, ‘আজ আমরা এমন কিছু তথ্য ফাঁসের বিষয়ে কথা বলছি যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন যে, জিসিসি রাষ্ট্রগুলো যদি এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় তবে তাদের প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হবে। আর যদি তারা এটি বন্ধ করতে চায়, তবে এই কয়েক দিনে যা অর্জিত হয়েছে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার দিতে হবে।’

উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপের অভিযোগ
জুহুরি আরও দাবি করেছেন, মার্কিন প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে সামরিক ও আর্থিকভাবে এই সংঘাতে অংশ নিতে চাপ দিচ্ছে। 

তিনি বলেন, এই কথিত দাবিগুলো চলমান যুদ্ধের সময় আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন নিশ্চিত করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতের আর্থিক ও সামরিক মাত্রার আলোচনার প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্যগুলো করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই
এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা উপসাগরীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। মন্তব্যগুলো বিবিসি অ্যারাবিক সম্প্রচারের সময় উল্লিখিত ‘ফাঁস হওয়া তথ্যের’ ওপর ভিত্তি করেই রয়ে গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। এই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। 

ইরান এর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক ও মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।  এই সংঘাত বিশ্ববাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

সূত্র: তুর্কি টুডে

এসআই