হরমুজ প্রণালিতে ‘টোল বুথ’ চালু করেছে ইরান, জাহাজের ফি কত?

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণের ফলে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের চেইনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চলমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। প্রতিদিন প্রায় বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এ পথে সরবরাহ হয়। তেহরান এই নৌপথকে কূটনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রণালির আশপাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে।

ইরান ইতিমধ্যেই একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালি পারাপারের জন্য জাহাজগুলিকে নথি, আইএমও নম্বর, ক্রু সদস্যদের তথ্য ও পরিবহনকৃত পণ্য সম্পর্কিত তথ্য জমা দিতে হয়। আইআরজিসি নৌ কমান্ড এসব যাচাই করে ক্লিয়ারেন্স কোড প্রদান করে এবং নির্ধারিত রুটের নির্দেশনা দেয়। অনুমোদিত না হলে জাহাজকে প্রণালি পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয় না।

ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য নৌপথ খোলা। ইতিমধ্যেই চীন, মালয়েশিয়া, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও মিসরের কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতি পেয়েছে। তবে ভারত সরকার জানিয়েছে, ভারতীয় জাহাজগুলো কোনো অর্থ প্রদান ছাড়াই নিরাপদে প্রণালি পার হয়েছে।

আইনি দিক থেকে বিষয়টি বিতর্কিত। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী, সব বিদেশি জাহাজ ‘ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার’ ভোগ করে এবং কোনো দেশ তা স্থগিত করতে পারে না। তবে ইরান পার্লামেন্টে এই আইন অনুমোদন না দেয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ বলা হচ্ছে। সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ১২ নটিক্যাল মাইলের বাইরে থাকা জলসীমায় টোল ফি আদায়ের বৈধ অধিকার রাখে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যেই প্রতিবারের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তেল ও গ্যাস সরবরাহের ওপর এই চাপ পরবর্তী মাসগুলোতে শিল্প উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এটি যুদ্ধকালীন সময়ে টোল আরোপের প্রথম ঘটনা নয়। ২০২৪ সালে ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এসএইচ