ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পতনের মুখে পড়েছে সোনা। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বৃদ্ধি এবং ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার আকর্ষণ কমে যাওয়ায় একদিনেই দাম কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
শুক্রবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম প্রতি আউন্সে ২.২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬.৪৫ ডলারে, যা ৫ মে’র পর সর্বনিম্ন। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত সোনার দর কমেছে মোট ৩.৬ শতাংশ। অন্যদিকে জুন ডেলিভারির মার্কিন গোল্ড ফিউচারও ২.৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫০.৮০ ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন প্রায় এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার আগ্রহ কমেছে। পাশাপাশি শক্তিশালী ডলারের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য সোনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
স্টোনএক্সের বিশ্লেষক রোনা ও’কনেল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির তথ্য বাজারে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এপ্রিল মাসের CPI ও PPI তথ্যও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে।
এদিকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম সপ্তাহজুড়ে প্রায় ৭.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৯ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির উচ্চ মূল্য উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
ভারতে স্বর্ণ আমদানির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণাও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে দেশটিতে সোনার দামে রেকর্ড পরিমাণ ডিসকাউন্ট দেখা গেছে।
শুধু সোনা নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় পতন হয়েছে। স্পট সিলভারের দাম ৭.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৭.৪৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম কমেছে ২.৯ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ১.৪ শতাংশ। সবগুলো ধাতুই সপ্তাহজুড়ে লোকসানের মুখে রয়েছে।
পিএস