নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের পরোক্ষ হুমকি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে পরোক্ষভাবে কঠোর হুমকি দিয়েছেন। 

স্থানীয় সময় শনিবার (২১ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’-এ একটি সম্পাদকীয় নিবন্ধ শেয়ার করেছেন, যার শিরোনাম- ‘নেতানিয়াহুর নড়বড়ে পুনর্নির্বাচনের সব তাস ট্রাম্পের হাতে’। খবর রোয়া নিউজের।

লিংকটি শেয়ার করার সময় ট্রাম্প নিজে কোনো ক্যাপশন বা মন্তব্য জুড়ে দেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্যাপশন না দিলেও নিবন্ধটি শেয়ার করার মাধ্যমে ট্রাম্প পরোক্ষভাবে হুঁশিয়ারি দিলেন যে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তন করার ক্ষমতা তার হাতে রয়েছে এবং এই বাস্তবতায় তিনি বেশ সন্তুষ্ট।

[272165]

নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন একটি অন্যতম প্রধান ও ভাগ্যনির্ধারক ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের পর বিভিন্ন অগ্রাধিকারের প্রশ্নে এই দুই নেতার মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ইসরায়েলের কিছু সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে তাদের আচরণে কিছুটা ‘নমনীয়তা’ আনার তাগিদ দিয়েছেন। এমনকি বৈরুতে বড় ধরনের ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার পেছনে নিজের প্রভাবের কথাও দাবি করেছেন ট্রাম্প।

পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান সমঝোতা স্মারকের আবহে লেবানন সীমান্তে নেতানিয়াহুকে আরো ‘যুক্তিসঙ্গত’ আচরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে ট্রাম্প কিছুটা রহস্য বজায় রেখে বলেছেন, তিনি ‘খুব সম্ভবত’ নেতানিয়াহুকেই সমর্থন দেবেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অন্য প্রার্থীদেরও মূল্যায়ন করতে চান।

বর্তমানে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশের একটি বড় অংশের নাগরিক চান না নেতানিয়াহু আবার নির্বাচনে দাঁড়ান। যুদ্ধ ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা এবং জোট সরকারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনে তার অবস্থান বেশ নড়বড়ে।

যদিও তার দল ‘লিকুদ পার্টি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, নেতানিয়াহুই আগামী নির্বাচনে দলনেতা থাকছেন, তবে ট্রাম্পের এই গ্রিন সিগন্যালের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।

প্রতিবেদনটিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চুক্তি বা লেবানন যুদ্ধবিরতির শর্তের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে নেতানিয়াহু যদি ক্রমাগত অবাধ্যতা দেখান, তাহলে ট্রাম্প তাকে শক্ত সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বা গাদি আইজেনকোটের মতো বিকল্প ও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের দিকেও হাত বাড়াতে পারেন।

ট্রাম্পের এই পোস্টটি নেতানিয়াহুর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এসআই