ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে ‘রহস্যজনক হামলা’

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। 

সংস্থাটি জানায়, ওমানের লিমাহ উপকূল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে এ ঘটনা ঘটে।

ইউকেএমটিওর তথ্যমতে, দক্ষিণমুখী যাত্রার সময় ট্যাংকারটির বাম পাশে (পোর্ট সাইড) অজ্ঞাত একটি বস্তু আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

ঘটনার কারণ ও প্রকৃতি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ওই এলাকায় চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম দেখলে দ্রুত রিপোর্ট করার পরামর্শ দিয়েছে ইউকেএমটিও।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ইরানের সামরিক কমান্ড বলেছিল, হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া বা নৌ চলাচলের প্রোটোকল অমান্য করার যেকোনো ঘটনার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতির পর ইরান এ হুঁশিয়ারি দেয়। সেন্টকম জানায়, বাহরাইনে একটি নিরাপত্তা সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। এতে আঞ্চলিক নেতারা প্রণালিটিতে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রতি তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি গত বৃহস্পতিবার সেন্টকমের বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ফোরাম পারস্য উপসাগরে আইনি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ছত্রছায়ায় এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। তবে দুই পক্ষের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনায় এটি এখন একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে।

এম