ঢাকা: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও ওমান। দুই দেশ প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটি যৌথ অস্থায়ী নৌ-চলাচল করিডোর প্রতিষ্ঠা এবং জলপথটি মাইনমুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
মঙ্গলবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর দুই দেশ জানায়, অস্থায়ী করিডোর চালুর পাশাপাশি স্থায়ী নৌ-চলাচল ব্যবস্থা এবং প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের বাণিজ্যিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ এলএনজি পরিবহন হতো। সংঘাত শুরুর পর থেকে এই জলপথে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
ইরান ও ওমানের এই উদ্যোগ এমন সময়ে এলো, যখন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে আবার কর্মী পাঠানো শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা সংঘাত আরও বড় আকার নেওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমেছে বলে ওয়াশিংটনের ধারণার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমানের আলোচনায় অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বুধবার তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছে, অস্থায়ী করিডোর চালু হলে ধীরে ধীরে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাড়তে পারে।
তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নয়। মঙ্গলবার ওমানের উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে অচল হয়ে পড়ে। এতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো বহাল থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
দুই দেশ জানিয়েছে, অস্থায়ী ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই নৌ-চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা আলোচনা চালিয়ে যাবে। অর্থাৎ হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমানের এই উদ্যোগ শুধু তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা নয়; ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক সমঝোতার প্রচেষ্টা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। ফলে হরমুজ নিয়ে তেহরান ও মাসকাটের সরাসরি সমঝোতা ওয়াশিংটনের ওপরও নতুন কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
পিএস