ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আপ নেতাসহ ৭০০ জনের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজিরবিহীন কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা যন্তরমন্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং অন্তত ৭০০ জনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (আপ) দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ, অতিশী, সঞ্জয় সিং এবং সঞ্জীব ঝার মতো শীর্ষস্থানীয় নেতারাও রয়েছেন। এছাড়া অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ) ও স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) বহু ছাত্রনেতা ও কর্মী এই আটকের শিকার হয়েছেন।
তরুণ নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের ডাকে এই আন্দোলনের পূর্বঘোষণা ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
যন্তরমন্তরের আশপাশে ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করার পাশাপাশি ১১টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া নিরাপত্তা স্বার্থে এবং গুজব প্রতিরোধে যন্তরমস্তর ও এর দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখতে টেলিকম অপারেটরদের নির্দেশ দেয় প্রশাসন।
মূলত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আপত্তি সত্ত্বেও একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এসএইচ