পাঁচ দিনে চাকরি হারালেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:২০ এএম

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়োগের মাত্র পাঁচ দিন পর চাকরি হারালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মুখপাত্র। 

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ফক্স নিউজ জানিয়েছে, কেটি জাকারিয়ার জায়গায় অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

শুক্রবার তার বিদায়ের খবর প্রকাশের কিছুক্ষণ আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি বলেন, জাকারিয়াকে তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি যদি না চাও, তাহলে তোমাকে এই কাজ করতে হবে না।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি তোমার জায়গায় থাকলে বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখতাম।’

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন জাকারিয়া। সংবাদ সম্মেলনটি ১৫ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়। সেখানে সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। এরপরের দিনগুলোতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কঠিন প্রশ্নের মুখে নিজের যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয় তাকে।

শুক্রবার মেরিন ওয়ানের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জাকারিয়ার বিদায়ের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, কেটি, এটা কি তোমার জন্য? কারণ, সত্যি বলতে, তোমার এই কাজ করার প্রয়োজন নেই।’


ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তোমাকে এভাবে আচরণের শিকার হতে হবে না।’ সংবাদমাধ্যম জাকারিয়ার সঙ্গে বেশ খারাপ আচরণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পর বিবিসি জানায়, জাকারিয়া পদ ছাড়ছেন।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ঘটনা রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। জাকারিয়ার আকস্মিক বিদায়কে রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন হোয়াইট হাউসের ব্যর্থতার ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরছেন ডেমোক্র্যাটরা।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হাকিম জেফরিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি চলে যাচ্ছেন। মাগা উগ্রপন্থীরা ক্রমেই ভেঙে পড়ছে।’

মঙ্গলবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়াকে নার্ভাস দেখা যায়। প্রায় ১৪ মিনিটের ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি নোটবুক থেকে লিখিত বক্তব্য পড়েন, অল্প কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন এবং একপর্যায়ে নিজের স্বামীকে প্রেসিডেন্ট বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তার আইন পেশার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। ট্রাম্পসহ কয়েকজন তাকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকও হয়েছেন। সাংবাদিক জানতে চান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়ার পরীক্ষা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অনুমোদন নিতে হয়।

জবাবে জাকারিয়া বলেন, ‘আমি যখন চীনে ছিলাম।’ পরে সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান ও ব্যাপক সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার জাকারিয়া স্বীকার করেন, তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চীনে যথাযথ যোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক লেনদেনসংক্রান্ত আইনি কাজ করেছেন।

পুরো সপ্তাহজুড়েই তার আইন পেশার যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন আলোচনায় ছিল। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সাক্ষাৎকারেও বিষয়টি উঠে আসে। জাকারিয়া বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ার কথা জানালে হ্যানিটি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি সরাসরি কেন বলেননি, আমি কখনো আইন পেশায় কাজ করিনি?’

ওই সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া জানান, প্রথম সংবাদ সম্মেলনের এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর হ্যানিটি প্রশ্ন করেন, তিনি কি বলতে চাইছেন যে কর্মীদের তাকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা উচিত ছিল?

শুক্রবার ট্রাম্পের প্রায়ই দেখা অনুষ্ঠান ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস-এও একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েন জাকারিয়া। তিনি বলেন, নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় না দেওয়ার বিষয়টি তিনি ট্রাম্পকে আলাদাভাবে জানাননি, কারণ তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়নি। তার ভাষ্য, তাকে আইনি দায়িত্বের জন্য নয়, যোগাযোগসংক্রান্ত কাজের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক লরেন্স জোনস তাকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার কি মনে হয়, প্রেসিডেন্টের আস্থা এখনো আপনার ওপর আছে?’ সরাসরি উত্তর না দিয়ে জাকারিয়া বলেন, ‘আমার আশা, আশপাশের সবার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারব।’

ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের প্রেস টিমে জাকারিয়ার বিদায়ই সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার ঘটনা। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১০ দিন দায়িত্ব পালনের পর পদ ছেড়েছিলেন।

এম