আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, গুম ও হত্যার অপরাধে যদি একজনকেও বিচার করতে হয়, সেই ব্যক্তি হবে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল হাসান। যত ষড়যন্ত্রই হোক, যত পরিকল্পনা হোক, গুম-খুনের বিচার অবশ্যই হবে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির পর চীফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুনের যে মহাকাব্যিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে নিষ্ঠুরতম ও কুখ্যাত ব্যক্তি হলেন জিয়াউল আহসান। তার বিরুদ্ধে শত শত মানুষকে গুম ও হত্যার অকাট্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। জাতির স্বার্থে ও মানবতার স্বার্থে এই বিচার অবশ্যই করতে হবে। তা না হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে।
চীফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আসামিপক্ষ বিচারকে পিছিয়ে দেওয়ার নানা পরিকল্পনা করতে পারে। তবে আইনের হাত অনেক দীর্ঘ। রাষ্ট্র ও প্রসিকিউশন ন্যায়বিচারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। আদালতও দায়বদ্ধ। সুতরাং এই বিচার হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
শুনানিতে তাজুল ইসলাম জিয়াউলের বিরুদ্ধে গুম-খুনের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় র্যাব সদর দপ্তর থেকে আটক সজলসহ তিনজনকে নিয়ে গাজীপুরের দিকে রওনা দেওয়ার সময় ধাপে ধাপে বন্দীদের চোখ ও হাত বাঁধা অবস্থায় হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানী এলাকা ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ট্রলার বা নৌকায় বন্দীদের হত্যা করা হতো। লাশ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য পেট কেটে সিমেন্টের ব্লক বেঁধে ফেলা হতো। এই পদ্ধতিকে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে পরিচালনা করা হতো। কমপক্ষে ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, বনদস্যু দমন অভিযানের নামে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় আটক ও গুম থাকা ব্যক্তিদের হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ দেখানো হতো। ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘অপারেশন মরা ভোলা’ ও ‘অপারেশন কটকা’ অভিযানে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন।
অভিযোগ উপস্থাপনের পর চীফ প্রসিকিউটর আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সময়ের জন্য আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে এবং শুনানির দিন ধার্য করে আগামী ৮ জানুয়ারি।
এসএইচ