দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সম্পন্ন হয়েছে সব প্রস্তুতি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে এ অনুষ্ঠান। প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, দেশি–বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১,২০০ আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বিচারপতি, কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা থাকবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন শীর্ষ প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে সরাসরি যোগ দিতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল।
এ ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু-এর সম্ভাব্য সফর নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা উপস্থিত থাকতে পারেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় তাঁর পরিবর্তে ওম বিড়লা এবং দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরপর বিএনপি সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে, যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
দক্ষিণ প্লাজায় শপথ আয়োজনের সিদ্ধান্ত বিএনপির পক্ষ থেকেই নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন এক গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
এম