নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্ত না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কার কথাও জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার নির্ধারিত অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের অভিযোগ ঘিরে কর্মচারীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সচিবালয়সহ মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণার চিন্তা চলছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের দপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও এর প্রভাব পড়তে পারে। কর্মচারীদের একটি অংশ এই ইস্যুকে সামনে এনে প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণের কথা বলা হলেও কর্মচারীরা দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রচার করা হচ্ছে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ ৪০ হাজার কোটি টাকার বড় অংশ জ্বালানি ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে ওই বরাদ্দ থেকে খুব সামান্য অর্থ অবশিষ্ট রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকারি চাকরিজীবীরা বলছেন, পে-স্কেল তাদের ন্যায্য অধিকার। দীর্ঘদিন নতুন বেতন কাঠামো না হওয়া এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের ভেতরে অস্থিরতার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নবম পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বিলম্ব, অর্থসংকট ও বাজেট সীমাবদ্ধতা, এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মচারীদের আলটিমেটাম। পাশাপাশি নতুন সরকারের ধীরগতির সিদ্ধান্তও কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত পে-স্কেল বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বড় চ্যালেঞ্জ। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে সরকার এ ইস্যুতে পুরোপুরি নেতিবাচক অবস্থানে নেই। নতুন অর্থবছরে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও জানিয়েছেন, পে-স্কেলের সুপারিশ ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে কর্মচারী নেতারা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সুস্পষ্ট ঘোষণা না এলে তারা নতুন কর্মসূচি দিতে পারেন। এতে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এসএইচ