পে-স্কেল: জুনের বাজেটের দিকেই তাকিয়ে কর্মচারীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
ফাইল ছবি

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতেই নতুন পে-স্কেলের সুপারিশকে অগ্রাধিকার দিলেও পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ ৪০ হাজার কোটি টাকার বড় অংশ অন্য খাতে ব্যয়ের খবর সামনে আসায় অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীরা এখন তাকিয়ে আছেন আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের দিকে। ১১ জুন জাতীয় সংসদে পেশ হতে যাওয়া প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকার এই বাজেটে দারিদ্র্য নিরসন, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ অগ্রাধিকার পেতে পারে। তবে পে-স্কেলের বিষয়টি সেখানে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়া এবং মূল্যস্ফীতির চাপে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সচিবালয়সহ বিভিন্ন দফতরে এ নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এতে প্রশাসনিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থ সংকট, বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপের কারণে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে ধীরগতির নীতি অনুসরণ করছে। জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হতে পারে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পে-স্কেলের সুপারিশ পর্যালোচনা না করে কিছু বলা সম্ভব নয়। দেশের রাজস্ব আদায় ও ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত দুর্বল অবস্থায় থাকায় বাস্তবতা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, নতুন সরকার অন্য খাতে অর্থ ব্যয় করতেই পারে, তবে আগামী বাজেটে পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। তিনি জানান, বড় ধরনের আন্দোলন না হলেও স্মারকলিপি ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের দিকেই এগোতে পারে সরকার।

এসএইচ