যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তিই চায় ইরান— এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তিনি বলেছেন, যেকোনও সমাধানে ভবিষ্যতে হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা এবং ক্ষতিপূরণ থাকতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না বলেও জোর দিয়ে জানিয়েছেন তিনি।
আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বলেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চায় না; বরং পুরো অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটের যেকোনও সমাধানে ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ থাকতে হবে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে যোগাযোগ হচ্ছে, তা কোনও আলোচনার অংশ নয়; বরং সরাসরি বা আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, অতীতের মতো এখনও তিনি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছেন। তবে এটিকে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব বার্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পৌঁছানো হয় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যেও কিছু যোগাযোগ রয়েছে। তবে ইরানের ভেতরে কোনও নির্দিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কোনও আলোচনা চলছে না।
আরাগচি জানান, এই বার্তা আদান-প্রদান সরকারি কাঠামোর মধ্যেই হচ্ছে এবং তা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব বার্তায় সতর্কবার্তা ও উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয় এবং এটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরান সাড়া দিয়েছে বলে যে প্রতিবেদন সামনে এসেছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, কোনও জবাব পাঠানো হয়নি এবং তেহরান এখন পর্যন্ত কোনও প্রস্তাব বা শর্তও দেয়নি।
তিনি বলেন, আলোচনার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ইরানের জনগণকে হুমকি দিয়ে কিছু অর্জন করা যাবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ইরানের সঙ্গে সম্মানজনকভাবে কথা বলার আহ্বান জানান।
সমুদ্র নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা রয়েছে। তবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতায় জড়িত, তাদের জন্য এই পথ সীমিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এম