পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন চায় সরকারি কর্মচারীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
ফাইল ছবি

টানা ১১ বছর নতুন বেতন কাঠামো না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও বেতন না বাড়ায় হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে সর্বোচ্চ দুই ধাপে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সরকারি কর্মচারী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকায় ঠেকেছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, পানি, বাসাভাড়া ও চিকিৎসার খরচ পাল্লা দিয়ে বাড়লেও বেতন সেভাবে বাড়েনি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের বড় অংশ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। মাস শেষে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পর অবশিষ্ট টাকায় ১০-১৫ দিনের বেশি সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে, সরকার তিন বছর মেয়াদে তিন ধাপে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে কর্মচারীরা এই দীর্ঘসূত্রতার পরিকল্পনায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর যদি ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়, তবে তার সুফল পাওয়া যাবে না। কারণ তত দিনে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে গিয়ে বেতন বৃদ্ধির সুফলকে অর্থহীন করে তুলবে।

সংগঠনের সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম মনে করেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাঁরা অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই সর্বোচ্চ দুই ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। তাঁদের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য ভাতাসমূহ কার্যকর করা হলে দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সরকারি কর্মচারীদের মতে, দুই ধাপে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবার কিছুটা স্বস্তির দেখা পাবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কর্মচারীরা আশা করছেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।

এসএইচ