কক্সবাজারের আকাশে দেখা যাওয়া রহস্যময় আলোর রেখা নিয়ে কয়েক ঘণ্টার জল্পনা-কল্পনার পর সামনে এসেছে এর সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে নতুন তথ্য। শুক্রবার সন্ধ্যায় সমুদ্রসৈকতের আকাশে হঠাৎ দেখা দেওয়া লালচে আলোকচ্ছটা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজারের লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় আকাশে সরু ও উজ্জ্বল একটি আলোর রেখা ভেসে উঠতে দেখা যায়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী সেই দৃশ্য অনেকেই মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরে ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে বাড়তে থাকে কৌতূহল।
প্রথমদিকে কেউ এটিকে উল্কাপাত, আবার কেউ রহস্যময় মহাকাশীয় বস্তু বলে ধারণা করেন। অনেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সঙ্গেও এর মিল খুঁজে পান। তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এটি আবহাওয়াসংক্রান্ত কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়।
এদিকে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, একই সময়ে ভারতের ওডিশা উপকূল থেকে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেই উৎক্ষেপণের আলোর প্রতিফলনই বাংলাদেশসহ আশপাশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে দৃশ্যমান হয়েছিল। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রটি বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেনি বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষাধীন ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের কৌশলগত সক্ষমতার বড় অংশ হতে পারে। বিশেষ করে ১০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার সম্ভাব্য ‘অগ্নি-৬’ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনা চলছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও আগেই জানিয়েছিল, এই প্রকল্প পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অগ্নি-৬ সফলভাবে মোতায়েন করা গেলে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে এমআইআরভি প্রযুক্তি যুক্ত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে, যার মাধ্যমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে পৃথক ওয়ারহেড পাঠানো সম্ভব।
এ ছাড়া সম্প্রতি ভারত দীর্ঘপাল্লার ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়েও একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছে। ফলে বঙ্গোপসাগর এলাকায় আগে থেকেই জারি করা ‘নোটাম’ বা বিশেষ আকাশসীমা সতর্কতার সঙ্গে শুক্রবারের রহস্যময় আলোর ঘটনার মিল খুঁজছেন বিশ্লেষকেরা।
যদিও এখন পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই আলোর রেখার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি, তবুও সময়, অবস্থান ও সামরিক কার্যক্রমের তথ্য মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
এম