রাজধানীর সচিবালয় থেকে শুরু করে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের সরকারি দপ্তরগুলোতে এখন বইছে নতুন হাওয়া। দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষা শেষে বহুল আলোচিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে চূড়ান্ত তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ২০১৫ সালে অষ্টম বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে হিমশিম খাওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি এখন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করছে সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি। সরকারের লক্ষ্য, আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন স্কেলের সুফল পৌঁছে দেওয়া।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পে স্কেলটি তিন ধাপে বাস্তবায়িত হতে পারে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রথম বছর অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে। দ্বিতীয় বছরে বাকি ৫০ শতাংশ এবং পরবর্তী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যোগ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সরকারের ওপর তাৎক্ষণিক আর্থিক চাপ কমবে, অন্যদিকে কর্মচারীরাও মুদ্রাস্ফীতির চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:৯.৪ থাকলেও নতুন স্কেলে তা ১:৮ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে, যা কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ (একনজরে)
১. ১,৬০,০০০ (নির্ধারিত)
২. ১,৩২,০০০ – ১,৫৩,০০০
৩. ১,১৩,০০০ – ১,৪৮,৮০০
৪. ১,০০,০০০ – ১,৪২,৪০০
৫. ৮৬,০০০ – ১,৩৯,৭০০
১০. ৩২,০০০ – ৭৭,৩০০
১৬. ২১,৯০০ – ৫২,৯০০
২০. ২০,০০০ – ৪৮,৪০০
কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রবীণ পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতায় বিশেষ বরাদ্দের সুপারিশ রয়েছে।
সরকারি এই বৃহৎ কর্মীবাহিনীর জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে ‘জনবান্ধব প্রশাসন’ গড়ার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাতে এই বেতন কাঠামো কার্যকর করাকে প্রশাসনের গতিশীলতা বাড়ানোর একটি মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এখন কেবল গেজেট প্রকাশের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা, যা বদলে দেবে লাখ লাখ সরকারি কর্মচারীর জীবনযাত্রার মান।
এসএইচ