ব্যবসা বান্ধব বাজেট, কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি: ঢাকা চেম্বার সভাপতি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ছবি : প্রতিনিধি

ঢাকা: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের উপর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়া বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ঢাকা চেম্বার সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়, তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়নের উপরই নির্ভর করবে এই বাজেটের প্রকৃত সাফল্য বলে মনে করছেন ডিসিসিআই সভাপতি। 

বাজেটের কাঠামো ও এডিপি: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বিগত বছরের তুলনায় ১৯.০৪% বেশি। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৩০.৩৪% বৃদ্ধি বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় চ্যালেঞ্জিং এবং ঘাটতি পূরণে ঋণনির্ভরতা ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি বিনিয়োগে ঋণপ্রবাহের জন্য ইতিবাচক নয়। তবে, পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক। এছাড়া, ৩ লক্ষ কোটি টাকার নতুন এডিপি, যা গত বছরের চেয়ে ৩০% বেশি, তবে চলতি বছরের মাত্র ৩৬.১৯% বাস্তবায়ন হার দুর্বল সক্ষমতার প্রমাণ, শুধু বড় বাজেট ও এডিপি নয়, বরং সফল বাস্তবায়নের উপর জোর দিতে হবে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার। 

কর ব্যবস্থাপনা: উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪%-এ হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে ০.৫% উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে করছাড় প্রশংসনীয়। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রৈমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধানকে স্বাগত জানাই। তবে মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা ও সর্বোচ্চ আয়কর ৩৫% নির্ধারণ হতাশাজনক এবং করমুক্ত সীমা ৫ লক্ষ টাকা করার দাবি জানাচ্ছে ডিসিসিআই। ক্যাশলেস লেনদেনে পিওএস মেশিন আমদানিতে শুল্ক হ্রাস ও আগাম কর শূন্য করা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সিএমএসএমই: বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ সাধুবাদযোগ্য। এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লক্ষ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন চালু প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে টার্নওভার কর ও আলাদা ভ্যাট রিটার্ন ফরম কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে বলে মনে করে ডিসিসিআই।

শিল্প, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণ: বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি ও প্রযুক্তিপণ্যে কর হ্রাস দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসারে সহায়ক হবে। একইসাথে, স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫% অতিরিক্ত ভ্যাট এবং সম্পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতি এবং দেশীয় ই-বাইক উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতে সকল রেয়াতি সুবিধা প্রদানকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: ইলেকট্রিক ভিহিকেল (ইভি)-তে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি, নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর হ্রাস এবং চার্জিং নেটওয়ার্ক আমদানিতে কর শূন্য করা যুগান্তকারী উদ্যোগ। তবে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কূপ খননের পদক্ষেপ প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। আমদানি নির্ভর জ্বালানিতে সুনির্দিষ্ট মূল্য কাঠামো না থাকলে স্বল্পমেয়াদি ভর্তুকি বিনিয়োগের পরিবর্তে অপচয় বাড়াবে বলে মনে করে ডিসিসিআই, সেই সাথে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মূল্য কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানাচ্ছে।

বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণ : বাজেটে সিঙ্গেল উইন্ডো বাধ্যতামূলক, ওয়ার্ক পারমিট ৭ দিনে, বিদেশি ঋণের সুদে উৎসে কর ২০% হতে ১০%-এ হ্রাস এবং উৎসে কর কর্তনজনিত ব্যয় অগ্রহণযোগ্যতার বিধান বাতিল বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ডিসিসিআই।

এ সময় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/পিএস