শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে স্কুলে ঢুকে শিক্ষিকাকে ওড়না পেঁচিয়ে লাঞ্ছনা

  • ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
ছবি প্রতিনিধি

ক্লাসে পড়া না পারায় এক শিক্ষার্থীকে শাসনের জেরে বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও এক শিক্ষিকাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া এলাকার সেলিম রেজা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা নাসরিন (২৮), শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথী (২৫) ও সেলিনা বেগম (৫০)। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ঝর্ণা খাতুন সাথীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালক সেলিম রেজা জানান, ঝর্ণা খাতুন বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক। পাঠদানকালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল খাতুনকে পড়া না পারার অভিযোগে তিনি শাসন করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে শিক্ষার্থীর মা লিপি খাতুন বিদ্যালয়ে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন এবং সবাইকে শাসিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীর মামা উজ্জ্বল মাল ও মামাতো ভাই বসির মাল বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালান। প্রতিবাদ করলে শিক্ষক ঝর্ণা খাতুনের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি জ্ঞান হারান। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার সময় ওই শিক্ষিকার পোশাক ছিঁড়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন জানান, উজ্জ্বল হোসেন বিদ্যালয়ে এসে পরিচালক সেলিম রেজাকে না পেয়ে তিন শিক্ষিকাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মাটিতে ফেলে টানতে টানতে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে যান। সে সময় ওই শিক্ষিকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাহউদ্দিন ইউসুফ নিবিড় জানান, শিক্ষিকা ঝর্ণা খাতুন সাথীর অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালক মো. সেলিম রেজা ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসএইচ