চাকরির নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতনকাঠামো নিশ্চিত করবে কে? 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ফাইল ছবি

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই বেতনকাঠামো কার্যকর হতে যাচ্ছে। সরকারের এই সবুজ সংকেতে জনপ্রশাসনে যখন আনন্দের সুবাতাস, ঠিক তখনই নতুন করে সামনে এসেছে দেশের কয়েক কোটি বেসরকারি চাকরিজীবীর ভবিষ্যৎ ও সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হলেও শুরুতেই সব সুবিধা একসঙ্গে মিলবে না। প্রথম ধাপে সংশোধিত মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বাকি অংশ ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা হবে। বর্তমানে ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকুরেরা মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও উৎসব ভাতাসহ নানা সুবিধা পান। নতুন কাঠামোতে এই সুবিধা আরও বাড়বে। একই সাথে পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও এই পে স্কেলের আওতায় আসার অপেক্ষায় আছেন।

ঠিক এই বৈপরীত্যের জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় এক মনস্তাত্ত্বিক ফাটল। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশই অবদান রাখছে বেসরকারি খাত। শিল্প, সেবা, ব্যাংকিং বা গণমাধ্যমের চাকা সচল রাখা এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য আজও কোনো সমন্বিত চাকরি-নীতিমালা, চাকরির নিরাপত্তা কিংবা কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কয়েক বছর আগে একটি সমন্বিত সার্ভিস রুলস প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের এই আয়োজনে বেসরকারি খাতের কর্মজীবীদের মনে এখন একটিই প্রশ্ন-বাজারের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে তাদের চাকরির নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতনকাঠামো নিশ্চিত করবে কে? রাষ্ট্র এই বিশাল বৈষম্য দূর করতে না পারলে অর্থনীতির সামগ্রিক ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ