পে-স্কেল নিয়ে জারি হচ্ছে ৭ এসআরও

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নে চূড়ান্ত প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই ঐতিহাসিক এই প্রজ্ঞাপন জারি হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পে-স্কেলের খসড়া রেজল্যুশন বিজি প্রেস থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে এবং তা চূড়ান্ত আইনি যাচাইয়ের (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পরেই নির্দিষ্ট এসআরও নম্বর বসিয়ে এটি গেজেট আকারে জারি করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২০ হাজার টাকায়। অন্যদিকে শীর্ষ বা ১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হচ্ছে। একইভাবে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেসিক ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪ হাজার টাকা করা হয়েছে। তবে সরকারি কোষাঘারের আর্থিক সক্ষমতা ও শৃঙ্খলার কথা বিবেচনা করে বর্ধিত এই মূল বেতন একবারে না দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে শুরু করে মোট তিন ধাপে সমন্বয় করা হবে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রথম ধাপে বর্ধিত অংশের ৫০ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ২৫ শতাংশ এবং শেষ ধাপে বাকি ২৫ শতাংশ সুবিধা পাবেন। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ এবং পরবর্তী দুই ধাপে ৩০ শতাংশ করে কার্যকর করা হবে। তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের মতো আনুষঙ্গিক ভাতাগুলো ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রজ্ঞাপন জারির পর বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ—এই সাতটি ভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মচারীদের জন্য পৃথক সাতটি এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করা হবে। প্রতিটি খাতের বেতন-ভাতা, কারিগরি রূপরেখা ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভিন্নতা বিবেচনা করেই এই আলাদা নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।

এবারের পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায়। এতদিন কাগজে-কলমে বেতন পুনর্নির্ধারণের নিয়ম থাকলেও এবার আইবাস প্লাস প্লাস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ তথ্য ইনপুট দিলে সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন ও ভাতার হিসাব তৈরি করবে।

এর ফলে কর্মচারীদের হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার ঝক্কি যেমন কমবে, তেমনি দ্বৈত সুবিধা, ভুল হিসাব বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও পুরোপুরি নিরসন হবে। মাঠপর্যায় থেকে সচিবালয় পর্যন্ত হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সংস্কার দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এসএইচ