আজ জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী, গড়বেন নতুন ইতিহাস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন। বিশ্ব সংস্থার সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে তিনি তাঁর প্রথম ভাষণ দেবেন। 

নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলের অধিবেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। তাঁর ভাষণের জন্য ১৫ মিনিট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরবেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলি এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এর আগে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং বিশ্ব নেতাদের সামনে এ বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। 

এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, উন্নয়নের অগ্রাধিকার, বিশ্ব শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধান তুলে ধরবেন। 

তিনি বলেন, ভাষণে দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু বিষয়ক পদক্ষেপ এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রতিফলিত হবে। একইসঙ্গে এই সফরে রোহিঙ্গা সংকট একটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এই ভাষণ তাঁর পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করবে। 

তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন পরিবারের প্রথম সদস্য যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। 

এর তেরো বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দেন। 

জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন। 

এছাড়া খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশুদের বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন। 

বাংলাদেশের জন্য ৮১তম অধিবেশন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। 

আজ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার আগে, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি উচ্চ-পর্যায়ের সভার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু ও উদ্বোধনী বক্তব্যও দেওয়ার কথা রয়েছে।

এরপর তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং ‘ফ্রম কমিটমেন্ট টু একশন : ইন্টিগ্রেটিং মিডওয়াইফ ইনটু প্রাইমারি হেলথ কেয়ার টু ইন্ড প্রিভেন্টেবল মেটারন্যাল এন্ড নিউবর্ন ডেথ’ বিষয়ক একটি উচ্চ-পর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। 

দিনের কর্মসূচির মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পর, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন। 

৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকে তারেক রহমান বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক উচ্চ-পর্যায়ের অনুষ্ঠান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। 

২২ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিনিধি দলের প্রধান ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় এবং এরপর ৮১তম সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 

পিএস