রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরার কোনো লক্ষণ নেই। একদিকে সয়াবিন তেল ও চিনির তীব্র সরবরাহ সংকট, অন্যদিকে ডিম, সবজি ও মাছ-মাংসের চড়া দামে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম বিপাকে পড়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি এবং প্যাকেট কেটে খোলা অবস্থায় বিক্রির মতো অনিয়মের চিত্রও মিলছে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে।
মিরপুর, পল্লবী, দুয়ারিপাড়া ও কচুক্ষেত বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্যাকেটজাত চিনির গায়ে ১১০ টাকা লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। বোতলজাত সয়াবিন তেলের নির্ধারিত মূল্য ২০৪ টাকা হলেও অনেক স্থানে তা ২১০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, ডিলারদের কাছ থেকে কম সরবরাহ পাওয়ার পাশাপাশি কমিশন কমে যাওয়ায় তাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। তবে সুপারশপগুলোতে নির্ধারিত দামে পণ্য মিললেও পাড়া-মহল্লার মুদিদোকানে চলছে সিন্ডিকেটের কারসাজি। আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে দাম বাড়ানোর নতুন পাঁয়তারায় মেতেছেন ব্যবসায়ীরা।
তেল ও চিনির পাশাপাশি ডিমের বাজারেও আগুন লেগেছে। ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আমিষের চাহিদায় বড় ধাক্কা দিচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
সবজির বাজারেও স্বস্তি মিলছে না। শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা ও বরবটি ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা কমে কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং আলু ও পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় মিলছে। মাছের বাজারেও তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান এবং তদারকির অভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমআরপি অমান্য করে অতিরিক্ত দাম আদায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি না বাড়লে সাধারণ ক্রেতার এই ভোগান্তি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এসএইচ