শিশুর হাসিতেই রচিত হোক নতুন বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ৫, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

শিশুর নিরাপদ শৈশব, আধুনিক শিক্ষা ও সুরক্ষিত ভবিষ্যতের অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হচ্ছে শিশু অধিকার দিবস এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি অর্ধশতক পেরিয়ে আজ গৌরবের ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ, পুষ্টি, সুচিকিৎসা এবং মেধা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ সোমবার শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আগামী ৬ থেকে ৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই উৎসব উদযাপিত হবে। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের সার্বিক বিকাশ সবচেয়ে জরুরি। তবে সমাজের নির্মম বাস্তবতায় এখনো শিশুশ্রম, বাল্যবিয়ে, সামাজিক সহিংসতা ও বৈষম্যের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান রয়েছে। এই সামাজিক ব্যাধিগুলো মূলোৎপাটনে কেবল আইন নয়, বরং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

আজকের ছোট্ট শিশুরাই আগামীর বিজ্ঞানী, শিক্ষক, অভিভাবক তথা দেশের মূল চালিকাশক্তি—এই বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুই একেকটি সম্ভাবনার ফুল। তাদের সঠিক যত্ন ও স্নেহে বড় করে তোলা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। ১৯৭৮ সাল থেকে শিশু একাডেমির উদ্যোগে চালু হওয়া ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার’ প্রতিযোগিতা শিশুদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ও শিশুশ্রম নিরসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নেওয়া বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। ১৯৯৪ সালে আইএলওর আইপিইসি প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব শিশু অধিকার রক্ষায় এক অনন্য মাইলফলক ছিল।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির নানা শাখায় দেশের আজকের শিশুরা আগামী দিনে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিশু একাডেমির ৫০ বছরের এই দীর্ঘ পথচলা লাখো শিশুর কণ্ঠে সুরের মূর্ছনা, চিত্রকলার ক্যানভাস আর রঙিন ভবিষ্যতের স্বপ্নযাত্রার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে।

শিশু অধিকার দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তীর এই আনন্দঘন মুহূর্তে দেশের সব শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি ও সংস্থাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সুবর্ণজয়ন্তীর এই উৎসব নতুন মানবিক অভিযাত্রার সূচনা করবে এবং প্রতিটি শিশুর নির্মল হাসিতে এক নিরাপদ, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে-এমনটাই প্রত্যাশা সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে।

এসএইচ