পেনশন নিয়ে যে সুপারিশ দিলো বেতন কমিশন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
ফাইল ছবি

নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ পুরোপুরি কার্যকর হলে আগামী পাঁচ বছরে সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ব্যয় বেড়ে ৫০ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এতে জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরির আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে জাতীয় বেতন কমিশন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবিষ্যতে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের জন্য চাঁদাভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থা চালুসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামোয় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ৫৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা চালু করে ২০৩০ সালের মধ্যে তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলেও রাজকোষের ওপর তৈরি হচ্ছে অভূতপূর্ব চাপ।

কমিশনের তথ্য মতে, প্রতিবছর গড়ে ৪.৫ শতাংশ হারে পেনশনভোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯ লাখ ১৬ হাজার পেনশনভোগীর জন্য যেখানে ৩৪ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, সেখানে ২০২৯-৩০ অর্থবছরে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪৫ হাজারে পৌঁছালে ব্যয় দাঁড়াবে ৫০ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকায়। অবসরপ্রাপ্তদের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘ ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে পেনশন মেটাতে গিয়ে রাজস্ব তহবিলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও অসহনীয় দায় তৈরি হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ‘ডিফাইন্ড বেনিফিট’ ব্যবস্থায় কর্মচারীদের কোনো চাঁদা দিতে হয় না এবং সর্বশেষ মূল বেতনের ৯০ শতাংশের ভিত্তিতে পেনশন দেওয়া হয়। তবে আগামী দিনগুলোতে এই রূপরেখা ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব বলে হুঁশিয়ার করেছে কমিশন। এর বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মতো ‘ডিফাইন্ড কন্ট্রিবিউশন’ বা নির্ধারিত চাঁদাভিত্তিক পেনশন চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে কর্মচারী ও সরকার যৌথভাবে তহবিলে অর্থ জমা করবে।

কমিশন মনে করে, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে সরকারি ও বেসরকারি সব খাতের কর্মীদের একটি অভিন্ন চাঁদাভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে বিপুল পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ তহবিল গড়ে উঠবে। সেই অর্থ পুঁজিবাজার ও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সামাজিক সুরক্ষাবেষ্টনীকেও আরও সুদৃঢ় করবে।

এসএইচ