রক্ষণাবেক্ষণ শেষে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকা: কক্সবাজারের মহেশখালীতে রক্ষণাবেক্ষণ শেষে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ১টা থেকে টার্মিনালটির রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়।

এর ফলে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে। পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৪০৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এসেছে এক হাজার ৫৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

[278293]

আর আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ হয়েছে ৮২৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

এর আগে গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত সামিটের টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। বুধবার সকাল ৮টায় জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৫৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ ছিল ৯৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

তবে টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ার পর বুধবার দুপুর ২টায় মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ১১০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সরবরাহ কমে যায় ৪৩০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ দেখা দেয়। ভোগান্তিতে পড়েন শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকরা। বিশেষ করে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় রান্নার কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হয় গ্রাহকদের।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এখন অনেকটাই আমদানি করা এলএনজিনির্ভর। ফলে দুটি ভাসমান টার্মিনালের যেকোনো একটিতে উৎপাদন বা রক্ষণাবেক্ষণজনিত বিঘ্ন ঘটলেই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনে।

দেশে আমদানি করা এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দৈনিক এক হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কম্পানি এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে সামিট গ্রুপের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
 
দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে গড়ে দুই হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে মোট সরবরাহের ৯০০ থেকে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। ফলে এলএনজি সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও বিদ্যমান সংকট আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

এর আগে গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গিয়েছিল। ওই ঘটনার প্রভাব কাটিয়ে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেও দীর্ঘ সময় লেগেছিল।

এসআই