জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি থেকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের পর নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে যখন দলবদলের আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই আমজনতার দলে দেখা দিল অস্বস্তিকর ভাঙন। দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান যখন জামায়াতপন্থী এনসিপি ছাড়াদের জন্য খোলা দরজার ঘোষণা দেন, সেই দরজা দিয়েই দল ছাড়লেন তার নিজের দলের সহসভাপতি সাধনা মহল।
রোববার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে আমজনতার দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সাধনা মহল। পোস্টে দল ছাড়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও মন্তব্যের ঘরে তার প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়েছে ভিন্নমত ও আদর্শিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি।
রোববার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, সদ্য নিবন্ধন পাওয়া আমজনতার দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই দলের সহসভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা আসে সাধনা মহলের পক্ষ থেকে।
পদত্যাগের ঘোষণায় তিনি লেখেন, আমজনতার দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারেক ভাই এবং দলের জন্য দোয়া ও শুভকামনা। আশা করি বড় ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আগেই তারা এই রাজনৈতিক ভুল পদক্ষেপ সংশোধনের সুযোগ পাবেন। এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।
মন্তব্যের ঘরে একাধিক ব্যক্তি সাধনা মহলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। কেউ কেউ মনে করেন, হিরো আলম একজন সংগ্রামী ও সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তি। জবাবে সাধনা মহল বলেন, বিষয়টি কোনো একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়।
আরেক মন্তব্যে হিরো আলমকে অশ্লীল নর্তক উল্লেখ করে সমালোচনা করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, সম্ভব না ভাই।
এলিটিজমের অভিযোগ এনে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, রাজনীতি কি শুধু এলিটদের জন্য। খেটে খাওয়া মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে আপত্তি কেন। এর জবাবে সাধনা মহল বলেন, হিরো আলমের অর্জন, কর্মজগৎ বা জনপ্রিয়তার সঙ্গে তার রাজনৈতিক বোঝাপড়ার কোনো আদর্শিক সমন্বয় নেই। তিনি মনে করেন না যে হিরো আলম মজলুমের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে কার্যকর কোনো ব্যক্তিত্ব।
একপর্যায়ে নাগরিক অধিকার হরণের অভিযোগ উঠলে তিনি বলেন, আপনারা হিরো আলমকে সংসদে পাঠানোর চেষ্টা করেন, করে দেখেন। পারবেন না।
এর আগে রোববারই আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান তার ফেসবুকে লেখেন, জামায়াতের জন্য যারা এনসিপি ছাড়ছেন, তাদের জন্য আমজনতার দলের দরজা খোলা। যুক্তি ও তর্কের বিবাদ থাকলেও অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির ইতিহাস নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। নির্বাচনে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্তে এনসিপিতে ভাঙন শুরু হয়েছে। একাধিক নেতানেত্রীর পদত্যাগের পরই আমজনতার দল এই রাজনৈতিক সুযোগ গ্রহণের ঘোষণা দেয়।
দলের ভেতর থেকেই একজন শীর্ষ নেত্রীর পদত্যাগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আমজনতার দলের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নামে যেকোনো জনপ্রিয় মুখকে গ্রহণ করা হবে কি না, নাকি আদর্শের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান থাকবে—এই দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে।
রাজনীতির খোলা দরজা দিয়ে কে ঢুকবে আর কে বেরিয়ে যাবে, সেই হিসাব আপাতত আমজনতার দলের জন্য সহজ থাকছে না।
এসএইচ