ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র সাত দিন বাকি, কিন্তু বিএনপির কাছে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এখন পর্যন্ত ৭১ জনকে বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনি লড়াই থেকে তারা সরে দাঁড়ায়নি। এতে ধানের শীষ ও মিত্র দলের প্রার্থীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন এবং দলীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নির্বাচনি মাঠে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীরা কয়েকটি আসনে দলের প্রার্থীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন। ৭৯টি আসনে অন্তত ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোটের হিসাব নিকাশে পরিবর্তন আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় তাদের জয়ের সম্ভাবনা থাকায় ধানের শীষ প্রার্থীরা চাপের মুখে পড়েছেন।
দলের মিত্র ও প্রার্থীরা হাইকমান্ডের কাছে তদবির চালাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশালে নির্বাচনি জনসভা চলাকালীন কিছু আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দল ছাড়ার বিপরীত বার্তা দিয়ে বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়িয়ে ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করবেন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। যারা শৃঙ্খলা মেনে চলবেন, তাদেরই দলে জায়গা থাকবে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও স্থানীয় নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে হয়েছে।
বাকি সাত দিনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের অবস্থান এখনও শক্তিশালী। ঢাকার তিনটি আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই চালাচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থী ও মিত্রদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগি হলে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্বাচন শুরুর আগে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার, পুনর্বহিষ্কার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থান-এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। কিছু এলাকায় পুরোনো ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে, যা নির্বাচনি প্রচারণায় প্রভাব ফেলছে।
এসএইচ