পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ারসংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তাঁকে আল্টিমেটাম দিয়েছে দলটি।
সোমবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত এক সভায় এ দাবি জানান জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইঙ্গিত ছাড়া কোনো পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে এমন মানবাধিকারবিরোধী মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশকে আবারও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাঈম আহমাদ বলেন, মাসখানেক আগে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর আদলে বিচারবহির্ভূত অভিযান পরিচালনার গুঞ্জন উঠেছিল। আইজিপির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই আশঙ্কা আরও বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে কাজে লাগিয়ে ক্রসফায়ারের পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে সেই দায়িত্ব পালনের নামে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে হত্যা করার হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের অনুমোদন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটের রায়ের আলোকে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠিত হলে আইজিপি এমন মন্তব্য করার সাহস পেতেন না। সরকার সংস্কারপ্রক্রিয়া উপেক্ষা করে দমন-পীড়নের পথ প্রশস্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, পুলিশ জনগণের করের টাকায় চলে। অথচ সেই পুলিশই ক্রসফায়ারের অনুমতি চাওয়ার কথা বলছে। এটি আইন ও সংবিধানের লঙ্ঘন। আইজিপির এমন বক্তব্যের জন্য তাঁকে বহিষ্কারেরও দাবি জানান তিনি।
জেডিপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, রাষ্ট্রের শক্তি বন্দুকের সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং সবচেয়ে দুর্বল নাগরিক কতটা নিরাপদ, তা দিয়ে পরিমাপ করা হয়। মানুষকে ভয় দেখানোর পরিবর্তে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে মনোযোগী হতে হবে।
প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য জাতিকে আতঙ্কিত করছে। দেশকে আবার ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সংস্কারে দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না করার কারণও জানতে চান তিনি।
জেডিপির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ বলেন, বিরোধী মত দমনে ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ঔপনিবেশিক আমলের ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন পরিবর্তন করে নতুন আইন প্রণয়ন ও পুলিশ সংস্কারের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আইজিপির ক্ষমা চাওয়া এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল হামিদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের মুখপাত্র সালমান শরীফসহ অন্যরা।
এসএইচ