রাজধানীতে বাসের ৯৮ রুট কমে ৩২, প্রতিটি রুটে চলবে এক কোম্পানির বাস

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১০:৪১ এএম

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে ঢাকার ৯৮টি বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি রুটে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে চলবে বাস। এতে সড়কে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঢাকার সড়কে যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো, আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং অন্য বাসের পথ আটকে দেওয়ার ঘটনা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব কারণে যানজট বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তিও পোহাতে হয়। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস চলাচল ও যাত্রী ওঠানামায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের একটি পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব। তবে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

শুরুতে দুটি রুটে চালুর উদ্যোগ

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহেই দুটি রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনা শুরুর উদ্যোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে আজিমপুর থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বিমানবন্দর হয়ে গাজীপুর পর্যন্ত চলাচলের পথ। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর-চট্টগ্রাম রোড এবং মিরপুর-মাওয়া করিডর নিয়েও আলোচনা চলছে।

এর আগে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে একক কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ডিটিসিএর মতে, এবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি থাকায় নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পুরোনো বাস শনাক্তে কাজ শুরু

নতুন পরিবহনব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে পরিবহন মালিক সমিতি। সরকারি নির্দেশনার পর রাজধানীর ২০টি পয়েন্টে পুরোনো ও জরাজীর্ণ বাস শনাক্ত এবং নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে।

তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবহন মালিকেরা। ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমের ভাষ্য, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পরিবহনব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হলেও এ জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকতে হবে।

বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ মালিকদের স্বার্থ ও নজরদারি

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাসের রুট কমিয়ে আনলেই রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। এ ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে প্রয়োজন টেকসই ব্যবসায়িক কাঠামো, পরিবহন মালিকদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং নিয়মিত নজরদারি।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক মনে করেন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট করিডরে লেগুনাসহ ছোট যানবাহনের চলাচলও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামানের মতে, পরিবহন মালিকদের লোকসানের ঝুঁকি কমিয়ে আর্থিক স্বার্থ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘ মেয়াদে এই ব্যবস্থা চালু রাখা সহজ হবে।

রাজধানীর ৯৮টি রুটকে ৩২টিতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাস পরিচালনায় সমন্বয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে নির্ধারিত স্টপেজের ব্যবহার, বাস চলাচলে শৃঙ্খলা, কার্যকর তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতার ওপর।

এম