জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময়

  • ধর্মচিন্তা ডেস্ক | সোনালী নিউজ
  • প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এ দিনে ইবাদত-বন্দেগির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা জুমার দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দুনিয়াবি কাজ থেকে বিরত হয়ে ইবাদতে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

‘হে মুমিনগণ! যখন জুম‘আর দিন সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ব্যবসা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (জুমা ৬২/৯)

জুমার দিনের গুরুত্ব বোঝাতে রাসূল (সা.) বলেন, لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ، أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ

‘লোকেরা যেন জুমা ত্যাগ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে; নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন, তারপর তারা অবশ্যই উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।’

জুমার দিনের এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণের কিছু চাইলে তার দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। তবে হাদিসে ওই সময়টি নির্দিষ্ট করে একটিমাত্র সময় বলা হয়নি। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দুটি সময় হলো—ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসা থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ এরপর তিনি বলেন, সময়টি খুবই অল্প। (সহিহ মুসলিম: ৮৫২)

খুতবা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত

একটি মত অনুযায়ী, ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে বলেছেন, ‘ইমাম বসার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৫৩; সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৯)

অর্থাৎ খতিব খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়কে এ ফজিলতের সময় হিসেবে ধরা হয়েছে। এ সময়ে মুসল্লিদের মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং ইবাদতে মনোযোগী থাকা উচিত। বিশেষ করে খুতবার সময় নীরব থাকার বিষয়টি ইসলামে গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে।

আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত

অন্যদিকে আরেকটি শক্তিশালী মত হলো, জুমার দিনের বিশেষ সময়টি আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিন বারো ঘণ্টা। এর মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তোমরা তা দিনের শেষ সময়ে আছরের পর অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮)

এই হাদিসের ভিত্তিতে অনেক আলেম আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে জুমার দিনের শেষ ভাগে দোয়া, জিকির ও ইবাদতে বেশি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দোয়া কবুলের বিশেষ সময় নির্ধারণে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও খুতবার সময় থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়—এই দুটি মতই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। তাই একজন মুসলিম শুধু একটি সময়ের ওপর নির্ভর না করে উভয় সময়েই আন্তরিকভাবে দোয়া করতে পারেন।

ইমাম ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেন, দোয়া কবুলের আশায় প্রত্যেক মুসলিমের উচিত উল্লিখিত দুই সময়ে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা। (আততামহিদ: ১৯/২৪)

বিশেষ করে আছরের পরের সময়টি দোয়া ও ইবাদতে কাটানো যেতে পারে। মাগরিবের অপেক্ষায় মসজিদে অবস্থান করে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার সুযোগও রয়েছে।

হাদিসে ‘নামাজরত অবস্থায়’ দোয়া করার যে কথা এসেছে, এর ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেছেন, নামাজের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিও নামাজের হুকুমের মধ্যে থাকেন। সে হিসেবে মাগরিবের অপেক্ষায় থেকে দোয়া করাও এ ফজিলতের আওতায় আসতে পারে।

জুমার দিন এত ফযীলতপূর্ণ একটি দিন যে, এই দিনে পাঁচটি আমল করতে পারলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতবাসী হিসাবে গণ্য করবেন। রাসূল (সা.) বলেন, خَمْسٌ مَنْ عَمِلَهُنَّ فِي يَوْمٍ كَتَبَهُ اللَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ: مَنْ عَادَ مَرِيضًا، وَشَهِدَ جَنَازَةً، وَصَامَ يَوْمًا، وَرَاحَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَأَعْتَقَ رَقَبَةً

‘পাঁচটি আমল যে একই দিনে করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার নাম জান্নাতবাসীদের মধ্যে লিখে দিবেন। ১. যে রোগীর সেবা করল, ২. যে কারো জানাযায় উপস্থিত হলো, ৩. যে সিয়াম পালন করল, ৪. জুম‘আর দিনে মসজিদে গেল এবং ৫. একজন দাস মুক্ত করল।’

এম